টুইটার দেশভিত্তিক সেন্সরশীপ আরোপ করতে যাচ্ছে একথা প্রকাশ হওয়ার সারা বিশ্ব থেকে এর সমালোচনা করা হয়েছে। একদিকে অনলাইনে যোগাযোগের জন্য এই মাধ্যম অত্যন্ত জনপ্রিয় অন্যদিকে প্রতিবাদের মাধ্যম হিসেবে অত্যন্ত সফলভাবে এটা ব্যবহার করা হয়েছে। মিসরের আন্দোলনকারী (স্যানড-মাংকি নামে পরিচিত) বলেছেন টুইটার ব্যবহারকারীদের বিক্রি করছে।
চীনে বৈধভাবে টুইটার ব্যবহারের অনুমতি না থাকলেও নানা উপায়ে ব্যবহার করা হয়। সেখানে আই উইউই বলেছেন যদি টুইটার এধরনের পদক্ষেপ নেয় তাহলে তিনি টুইটার ব্যবহার বন্ধ করে দেবেন। ফোর্বস পত্রিকার প্রযুক্তি ব্লগে বলা হয়েছে এটা টুইটারের সামাজিক আত্মহত্যা।
টুইটার অবশ্য বলছে যখনই কোন বিষয় সেন্সর করা হবে সাথেসাথে সে সম্পর্কে জানিয়ে দেয়া হবে। অনেকেই খুব দ্রুত ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। কিন্তু যারা মুক্তমতের পক্ষে কথা বলে সেই রিপোর্টার্স উইথআউট বর্ডারস টুইটারের কাছে এক চিঠি পাঠিয়ে তাদের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে বলেছে। তাদের বক্তব্য মাত্র কিছুদিন আগে মিসরের আন্দোলনের সময় মুক্তভাবে কথা বলার সুযোগ দেয়ার কথা বলে তারা সুনাম করেছে। এখন একেক দেশের জন্য একেক নীতি ব্যবহার করে তারা সেখান থেকে সরে যাচ্ছে। এটা রীতিমত উল্টোপথে যাওয়া।
সম্প্রতি সৌদি রাজপুত্র টুইটারে ৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছেন, অনেকে সেদিকেও দৃষ্টি দিচ্ছেন। তবে টুইটারের পক্ষ থেকে কারন হিসেবে বিনিয়োগকারীদের ভুমিকার কথা অস্বিকার করা হয়েছে।
ইন্টারনেটে সেন্সরশীপের কারন একে দেশে একেক ধরনের। আমেরিকানরা মনে করে পাইরেসি বন্ধের কারনে সেটা করা উচিত, জার্মানী-ফ্রান্সে নাজিবাদীদের মত প্রচারে বাধা দেয়া প্রয়োজন মনে করা হয়, চীনে বাধা দেয়া হয় রাজনৈতিক ভিন্নমত প্রকাশে। বিভিন্ন দেশের নিয়ম না মানলে টুইটার কর্মীদের জেলে ঢোকানো হতে পারে। কাজেই নির্দিষ্টভাবে টুইটারকে পুরোপুরি দায়ী করা যায় না। আবার এর প্রতিবাদ যারা করছেন তাদের দাবীও যৌক্তিক। অণ্যায়ের প্রতিবাদ করার মত সুযোগ অন্তত ইন্টারনেটে থাকা উচিত বলেই মনে করেন তারা।
টুইটারের সেন্সরশীপের প্রতিবাদ বিশ্বজুড়ে
29 01 2012
Advertisement
